মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

০১।

(ক) আয়তনঃ ২১৩৭৮.৭৬ একর বা ৮৫.৫২ বর্গ কিঃমিঃ

 

(খ) সীমানাঃ উত্তরে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলা ও যশোরের অভয়নগর  উপজেলা, পূর্বে খুলনা জেলার  

     রুপসা ও তেরখাদা উপজেলা, পশ্চিমে ডুমুরিয়া উপজেলা, দক্ষিণে ভৈরব নদী ও মেট্রো এলাকা।

 

(গ) অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশঃ ২২● ৫০' ও ২২● ৫১' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯● ৩৩' ও ৮৯● ৪০' পূর্ব  দ্রাঘিমাংশ।

 

২। জনসংখ্যাঃ

 

পুরুষ =৭৯,২৩৬ জন।

মহিলা=৭৪,৭৫১ জন

মোটঃ ১,৫৩,৯৮১ জন।

 

৩। (ক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যাঃ

 

  • ডিগ্রী কলেজ-০২ টি
  • উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ-০২ টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়-১৬টি
  • নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়-০১ টি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়-৩৪ টি এবং
  • দাখিল মাদ্রাসা-০১ টি। 

 

(খ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য হলে বিবরনীঃ

 

  • সেনহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৮৮৭ খ্রিঃ, এটি দিঘলিয়া উপজেলার  প্রাচীনতম  প্রতিষ্ঠান।
  • দিঘলিয়া এম এ মজিদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৬৩ খ্রিঃ, এটি দিঘলিয়া উপজেলার একমাত্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
  • গাজীরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯২৭ খ্রিঃ, এটি দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী  প্রতিষ্ঠান।
  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আর,ডি,এন মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য।

 

(গ) শিক্ষার হারঃ

  1. প্রাথমিক স্তরেঃ ৯২%
  2. মাধ্যমিক স্তরেঃ ৯৪.১৯%

 

৪।

(ক) জনগণের পেশাঃ কৃষি, ব্যবসা, চাকুরী, মিল শ্রমিক ও পরিবহণ শ্রমিক।

 

(খ) দারিদ্রের হারঃ ২১.৫%

 

৫।

শিল্প (কুটির শিল্প, হস্ত শিল্প)- কুমার, কামার ও বাঁশ বেতের কাজ।

 

৬।

(ক) ইউনিয়নের সংখ্যা ও নামঃ ০৬ (ছয়)টি, সেনহাটি, বারাকপুর, দিঘলিয়া, গাজীরহাট, আড়ংঘাটা এবং

      যোগীপোল।

 

(খ) গ্রামের সংখ্যাঃ ৫৩ টি।

 

৭। উপজেলার নামকরণ সংক্রান্ত তথ্যাদিঃ

দিঘলিয়া উপজেলার নামকরণ সম্পর্কে কোনো দালিলিক প্রমান পাওয়া যায় নাই। তবে নামকরণ সম্পর্কে এলাকায় যে জনশ্রুতি আছে তা এরকমঃ দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি, বারাকপুর, দিঘলিয়া ইউনিয়নের ভূ-খন্ড মূলতঃ ভৈরব নদীর পলি দ্বারা সৃষ্ট । এক সময় এ অঞ্চলের লোকজনকে বলা হতো "নেমি" (name)। এ চরাঞ্চলটি ছিল লম্বা বা দীঘল। এ কারনে এলাকাটির নাম হয়েছে দিঘলিয়া। কেউ কেউ বলেন, এখানে দীর্ঘ "আল" দিয়ে জমি ঘেরা হতো। দীর্ঘ আল থেকে "দীঘ আল" এবং এর সঙ্গে "ঈয়" প্রত্যয় যোগে "দীঘলিয়া" নামকরণ হয়েছে।

০৮। উপজেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

১৯৮৭ সালের ১২ জানুয়ারি দিঘলিয়া স্বতন্ত্র উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে । এর আগে ১৯৮৬ সালের  ০৩ জুলাই দিঘলিয়া একটি থানা হিসেবে পরিচিতি ছিল । তবে দিঘলিয়া থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পূর্ব পর্যন্ত দৌলতপুর থানার অন্তর্ভুক্ত ছিল ।

 

দিঘলিয়া উপজেলায়  এমন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি জম্ম গ্রহণ করেন যাঁদের পরিচিতি ছিল অবিভক্ত ভারত জুড়ে ।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন  দিঘলিয়ার সেনহাটি ইউনিয়নে জম্মগ্রহণ করেন । তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ।

 

অবিভক্ত ভারতের  বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রশিকলাল দাশ (১৮৯৯-১৯৬৭),রতিকান্ত দাস, অনুজাচরণ সেন, অতুল সেন, দ্বিরাজ ভট্রাচার্য, রবীন সেন, শশধর আচার্য, দেবেন গাঙ্গুলী, সুকলাল মিত্র সেনহাটিতে  জম্মগ্রহণ করেন। এছাড়া চন্দনীমহল গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন রাজনীতিবিদ ডাঃ নরেশ ব্যানার্জী ।

 

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় নীতি কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭), নাট্যকার শচীন্দ্র নাথ সেনগুপ্ত, মানকুমারী বসু এ উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নে জম্মগ্রহণ করেন ।

 

এছাড়া বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ  খান জহুরুল হক ও মিলজার হোসেন,বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী এম এ মজিদ এ উপজেলার কৃতি সন্তান ।

 

পীর খানজাহান আলী (রঃ) এ জনপদ দিয়ে যাবার সময় এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে  রাস্তা নির্মাণ এবং পুকুর খনন করেন । এখনও তাঁর স্মৃতি বহন করছে পানিগাতী গ্রামের খানজাহান আলী সীমানন্দ দীঘি। এছাড়া সেনহাটি গ্রামের  উত্তর দিকে রয়েছে একটি বিশাল দীঘি ।

পীর খানজাহান আলী (রঃ) বাগেরহাট যাবার সময় এ জনপদের  যে স্থানে বসে ফরমায়েশ বা আদেশ জারি করেছিলেন সে স্থানের নাম হয় ফরমায়েশ খানা । বর্তমানে ফরমাইশখানা নামে এ গ্রামটি পরিচিত । অপরদিকে যে স্থানে ব্যারাক বা তাঁবু ফেলে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন সে স্থানের নাম হয় বারাকপুর ।

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দিঘলিয়ায় ভয়াবহ কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। ১৯৭১ সালে এ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন স্থানে যেয়ে পাকহানাদারদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।

 

দিঘলিয়া উপেজলার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেনহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮৮৭ সালে শ্রীনাথ নামক জনৈক ব্যক্তি/ শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বর্গের সহযোগিতায় এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন । ১৯৮৮ সালে এ বিদ্যালয়ের ছাত্র কুমুদ বন্ধু দাশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং অবিভক্ত ভারতে ০৪ টি প্রদেশ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা ও আসামের মধ্যে তিনি সর্ব্বোচ্চ নম্বর পান ।

 

খুলনা জেলার মধ্যে দিঘলিয়া উপজেলা একটি ইতিহাস, ঐতিহ্যসমৃদ্ধ জনপদ । এ জনপদ প্রাচীনত্বের দিক থেকে যেমন ঐতিহ্য বহন করছে, আধুনিকতার ক্ষেত্রেও তেমনি এ উপজেলা অগ্রগতির সোপানে আরোহন করছে ।

সূত্রঃ উপজেলা তথ্য, পরিকল্পনা ও বাজেট বই ২০১৪-২০১৯, দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ, দিঘলিয়া। 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :
Facebook Twitter